
মোয়াজ্জেম বিন আউয়াল
একটা সময় বিদ্যালয় থেকে এসে সারাদিন কাটতো খেলাধুলার মাধ্যমে। এই সব খেলার মধ্যে রয়েছে কানামাছি, গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্দা, ফুটবল, ভলিবল, পুকুরে সাতার কাটা ইত্যাদি। জোনাকী রাতে দুই দলের মধ্যে চলতো বুদ্ধিমান খেলা। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন পুরোনো সেই খেলাধুলা গুলো সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা রাত-দিন এনড্রয়েড মোবাইলে বিভিন্ন গেইমস নিয়ে ব্যস্ত।
এতে করে অল্প বয়সে অনেকে চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ঘরে বসে থাকতে থাকতে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই বছর করোনা ভাইরাসে গোটা পৃথিবী আক্রান্ত হওয়ায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা অনেকটা গৃহবন্দী। অন্যদিকে দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা কিছুটা অবসর সময় পার করছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছেলে মেয়েরা এই সুযোগে ঘুড়ি উড়াতে ব্যস্ত। এনিয়ে চলছে তাদের মাঝে প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে কত বড় ঘুড়ি বানাতে পারে তা নিয়ে চলছে রাত দিন কর্ম পরিকল্পনা। এর মধ্যে কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ ফুট লম্বা ঘুড়ি পর্যন্ত তৈরি করেছে।
শুধু তা নয় কে কার ঘুড়ি উড়ন্ত অবস্থায় কেটে দিতে পারে তা নিয়ে ও চলে প্রতিযোগিতা। একটি ঘুড়ি কাটতে পারলেই শুরু হয় আনন্দ হৈ হুল্লোড়। কেউ কেউ ঘুড়ির রশির মধ্যে মাঞ্জা (ভাতের মারের সাথে কাঁচের গুড়া এক সাথে করে মাঞ্জা তৈরি করে) মারে যাতে করে অন্য ঘুড়ির রশিতে লাগলে সাথে সাথে কেটে যায়। ঘুড়ি উড়াতে অনেক সময় ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে প্রাপ্তবয়স্করা ও অংশ গ্রহন করে।
এই ব্যাপারে ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ইফরান বলেন, ঘুড়ি উড়াতে আমার খুব ভালো লাগে। তাই প্রতিদিনই বিকেলে ঘুড়ি উড়াতে মাঠে চলে আসি।
এই বিষয়ে ডাঃ আবুল কাশেম বলেন, ঘুড়ি উড়ানোর সময় ঘাড় বেশি বাঁকা করা যাবে না। এতে করে ঘাড়ের সমস্যা হতে পারে। অন্যথায় দেহ মন প্রফুল্ল রাখতে ঘুড়ি উড়ালে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা শরীরের জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
