ওমর ফারুক শামীম, ইউরোপ প্রতিনিধি: জার্মান পশ্চিম ইউরোপের একটি রাষ্ট্র। জার্মান ভাষায় এর নাম Deutschland। সরকারি নাম সংযুক্ত প্রজাতন্ত্রী জার্মানি (Bundesrepublik Deutschland) রাজধানী বার্লিন। অভিবাসীদের পছন্দের তালিকায় ইউরোপের দেশ জার্মানির অবস্থান সবার উপরে থাকলেও নাগরিকত্ব পাওয়া বেশ জটিল প্রক্রিয়া।বর্তমান আইন অনুযায়ী জার্মানিতে দীর্ঘদিন বসবাস করা অভিবাসীদের জন্যও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। তাই অনেক অভিবাসী লম্বা সময় জার্মানিতে লিগেল ভাবে অবস্থান করেও থাকতে হয় পাসপোর্ট বিহীন।

২০২২ সালে জার্মান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৫৪৫ জন। এই সংখ্যা অন্তত দশ বছর ধরে বসবাস করেন এমন অভিবাসীর মাত্র তিন দশমিক এক শতাংশ। এছাড়াও ইউরোপের গড় হারের তুলনায় জার্মানিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার হার বেশ কম। অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা বিদ্যমান পাসপোর্ট ত্যাগ করার বিধান এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তাই অভিবাসীদের জন্য জার্মানিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে চায় দেশটির জোট সরকার। এ জন্য আইন পরিবর্তন করে নাগরিক হওয়ার পথ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জার্মানির মন্ত্রিসভা ২৩ আগস্ট দেশটির নাগরিকত্ব আইন সংস্কারের খসড়া অনুমোদন করেছে। পার্লামেন্টে পাস হলে কার্যকর হবে সেই আইন। এতে অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ আগের চেয়ে সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজা এটিকে সরকারের সবচেয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দক্ষ কর্মীর সংকটে থাকা জার্মানির আইন যথেষ্ট আধুনিক ও অভিবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় নয় বলে অভিযোগ করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জার্মানিতে বসবাসকারী ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বা ১৪ শতাংশের জার্মান পাসপোর্ট নেই। এর মধ্যে ১০ বছর বা তার বেশি সময় বসবাস করছেন, এমন অভিবাসীর সংখ্যা ৫৩ লাখ।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জার্মানির জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বছরের পর বছর বসবাসের পরও সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত হতে পারছেন না। এ কারণে সমাজে তাঁরা জার্মানির নাগরিকদের মতো অংশগ্রহণ এবং অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন না।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ইইউ ও সুইস নাগরিক ছাড়া দ্বৈত পাসপোর্টের অনুমোদন দেয় না জার্মানি। খসড়া আইন পাস হলে এই শর্তের পরিবর্তন হবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশিরা নিজ দেশের নাগরিকত্ব বজায় রেখেও জার্মানির পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন। এ জন্য তাঁকে অবশ্য অন্য শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের সময়সীমা আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। অর্থাৎ অভিবাসীরা বৈধভাবে পাঁচ বছর বসবাস করলে জার্মানির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কেউ যথাযথভাবে জার্মানির সমাজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলে তিন বছর বসবাসের পরই আবেদন করতে পারবেন। যেমন কাজে অসাধারণ দক্ষতা দেখালে কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করলে, জার্মান ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা থাকলে এবং স্বাধীনভাবে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়রোজগার করলে, সেগুলো বিশেষ যোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে।
অভিবাসী মা-বাবার জার্মানিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা শর্তহীন নাগরিকত্ব পাবে। চাইলে মা-বাবার দেশের নাগরিকত্বও তারা রাখতে পারবে। তবে বাবা অথবা মা যেকোনো একজন বৈধভাবে জার্মানিতে পাঁচ বছর বসবাস করলে নাগরিকত্বের এই যোগ্যতা অর্জন করবে তারা।
নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সমভাবে দেশটির রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। তাঁরা সম-অধিকার পাচ্ছেন কি না, রাষ্ট্র তার দেখভাল করবে। নতুন নাগরিকত্ব প্রাপ্তদের যাতে একটি উৎসবের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সনদ হস্তান্তর করা হয়, তার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়া আইনে। নতুন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা ভাতাপ্রাপ্তরাও নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন না।
