কালিয়াকৈরে সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হামলা ও শিশুকে আচড়ে দেয়ার অভিযোগ
গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দোকান ঘরের ভাড়া না দেয়ায় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হকের (ওরফে ঘুড়া সামছুল) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রবিবার(২৮ জুন) সকালে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এছাড়াও ঘুড়ি উড়ানোর কারনে এক শিশুকে আচড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দুটি ঘটনায় শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকার মোয়াজ্জেম হোসাইনের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন (৩৫), একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন ও উপজেলার সাজনধারা এলাকার আলী হোসেনের ছেলে রিয়াজ হোসেন (৬)।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল হক এ দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে। কালিয়াকৈর বাজারে পল্লিবিদ্যুৎ অফিসের সামনে ওই চেয়ারম্যানের জমি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান করেন লতিফপুর এলাকার ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন। করোনা ভাইরাসের কারনে ব্যবসা ভাটা পড়ায় কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া পড়ে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সকালে ওই ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠান সাবেক ওই চেয়ারম্যান সামসুল হক। পরে ভয়ে ওই ব্যবসায়ী পাশের শ্রমিক নেতা কামাল হোসেনকে সাথে নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় ওই চেয়ারম্যান ও তার ছেলে মৃদুল হোসেনের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন লাঠি-সোঠা নিয়ে হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ী শাখাওয়াত ও শ্রমিক পরিবহন নেতা কামালকে এলোপাথারি মারধর করেন এক পর্যায়ে শাখাওয়াতের মাথায় ঘুড়া সামছুল বাশের লাঠিয়ে সজোরে আগাত করলে মাটিতে পরে যায়।
পরে সন্ত্রাসী বাহিনী চলে গেলে আশপাশের লোকজন ব্যবসায়ী শাখাওয়াতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং কামাল হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত শাখাওয়াতের বাবা মোয়াজ্জেম হোসাইন বাদী হয়ে শনিবার বিকেলে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে বুক ফুলিয়ে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অপর দিকে উপজেলার সাজনধারা এলাকার আলী হোসেন ও তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় ওই চেয়ারম্যান সামসুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সেখানে বাসা ভাড়া থেকে তাদের ছেলে রিয়াজ স্থানীয় শাহীন স্কুলে নার্সারীতে লেখা-পড়া করে আসছে। কিন্তু গত বুধবার সকালে ওই শিশুটি বাসার সামনে ঘুড়ি উড়ানোর কারনে ইটের খন্ড দিয়ে ঢিল ছুড়ে তার পায়ে আঘাত করে। পরে তাকে দৌড়ে ধরে উচু করে আচড়ে দেয়। এতে সে আহত হন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সাজনধারা এলাকা থেকে কয়েক শতাধিক লোক ওই চেয়ারম্যানের বাড়িতে যায়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন ওই চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করে।
আহত শিশু রিয়াজের মা রুমি আক্তার জানান, আমার ছেলেকে আচড়ে দেয়ার খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। তবে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযুক্ত আটাবহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামসুল হক জানান, এর পরে শাখাওয়াত হসপিটাল থেকে আসলে আমি ওকে মেরে ফেলবো। তিনি আরো বলেন ঘর ভাড়া চাওয়ায় উল্টো আমাকেই মারধর করে। তাকে শাখাওয়াত মারপিট করেছে এ বিষয়ে সাংবাদিক জানতে চাইলে থানাতে কোন অভিযোগ দিয়েছে কিনা এতে তিনি জানান তিনি কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।এছাড়া ওই শিশুকে আচড়ে দেওয়ার অভিযোগটিও মিথ্যা।
আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছ বলেন, ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তাদের( আসামি) পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
