নরসিংদী প্রতিনিধি
সরকারের উন্নয়ন কান্ড ও স্থানীয় পযার্য়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) “রুখবো দুর্নীতি গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশেই কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চলমান সমাজে এখনও এমন লোকের দেখা পাবেন যারা মানুষের ও সমাজের জন্য কাজ করতে পছন্দ ও আনন্দ পায়। অনেক আছেন বছরের পর বছর ধরে অনেকে বিনিময় ছাড়া ও টাকা পয়সায় সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে আমরা আলোকিত মানুষ দেখতে চাই।
আলোকিত মানুষের সংখ্যা যে সমাজে বেশি সে সমাজ দুর্নীতি কম। সর্বস্তরে ভালো ও আলোকিত মানুষ চাই। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুরণ হবে। আমরা পারবো সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলতে। আজ (২০ সেপ্টেম্বর) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গণ শুনানি অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম এসব খতা বলেন।
তিনি আরও বলেন, নরসিংদীর রায়পুরায় ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যে অরাজকতা হয় তা অন্য কোথাও দেখা যায়নি। তাই স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসন ও জনগণ একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই কম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের লক্ষ্যে প্যেঁছতে পারব।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন এর সভাপতিত্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে গণ শুনানি গ্রহন করেন। “রুখবো দুর্নীতি গড়ব দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ” এই শ্লোগানকে ধারণ করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় গণ শুনানি অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগিতায়, নরসিংদী জেলা ও রায়পুরা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
মুক্ত আলোচনায় উপস্থিত উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ তাদের অভিযোগ উত্থাপন করেন। এসময় অভিযুক্ত বিভাগীয় কর্মকতার্গণ এই অভিযোগের জবাব দেন। এসময় জেলা রায়পুরা উপজেলার ভূমি বিষয়ের অভিযোগ সবচেয়ে বেশী উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ সহকারী ও ভূমি কর্মকতার্গণ খারিজের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসক তাৎক্ষনিক ৩ জন কর্মকতার্কে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এছাড়া রায়াপুরা থানা পুলিশের কনস্টেবল আমজাদ হোসেন কর্তৃক সাধারন মানুষকে হয়রানির শিকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাকে তাৎক্ষনিকভাবে বরখাস্ত করেন।
এসময় সভাপতির বক্তব্যে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, দেশের সর্ব বৃহত্তর ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে রায়পুরা উপজেলা গঠিত। এই উপজেলার একটি বিরাট অংশ চরাঞ্চল হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা সমস্যা রয়েছে। যারফলে এই এলাকার উন্নয়ন তুলমনামূলক কিছুটা কম। এরমধ্যেই উপজেলার সীমিত সংখ্যাক কর্মকর্তা কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম পরিচালতি হচ্ছে। আমরা এই এলাকাগুলোর সাবিক উন্নয়নে কাজ করে যাব।
এসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক মো: আকতার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জাকির হোসেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর সূর্য কান্ত দাস, সাধারন সম্পাদক বশির আহমেদ, রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সাদেক, পৌর মেয়র জামাল উদ্দিন ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, সকল ইউপি চেয়ারম্যানসহ ভুক্তভোগী সাধারন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সকলের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে বলে দাবি করেন আয়োজকগণ। এমন অনুষ্ঠান অব্যহত রাখলে দেশ এগিয়ে যাবে। দুর্নীতি কমে যাবে।
