দৈনিক জাগো বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক

নতুন শিক্ষাব্যবস্থার যুগে বাংলাদেশ-চিন্তার ও ভাবনার বিষয়।

0 258

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আমি কোন শিক্ষাবিদ নই তাই শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে সাজালে দেশের জন্য ভাল হবে তা নিয়ে আমার তেমন কোন জ্ঞান নেই কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকদের ট্রেনিং এর কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে এবং অভিভাবকদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ ও তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তা দেখে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে হল।

আমি যেহেতু দেশে পড়াশোনা করেছি এবং দেশের বাহিরে আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছি, সুইজারল্যান্ডের একটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন দেশের সাইন্টিস্ট ও পিএইচডি গবেষকদের সাথে তিন মাস কাটানোর সুযোগ হয়েছিল এবং বর্তমানে পর্তুগালে কর্মরত আছি সেই সুবাদে পর্তুগালে পড়াশোনা, ট্রেনিং এবং ব্রিটিশ (ইউকে) দুইটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে দুইটা কোর্স করার সুযোগ হয়েছে তাই দেশের আমাদের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমার ধারণা আছে।

একটা জাতিকে যে জিনিসটা সবার থেকে আলাদা করে তোলে সেটা হল তাদের শিক্ষাব্যবস্থা। এই শিক্ষাব্যবস্থা একটা জাতিকে কর্মদক্ষ করে তোলে। কর্মদক্ষ ও সবার থেকে আলাদা করে তোলার জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজন প্রতিযোগিতা, কর্মমুখি ও সৃজনশীল শিক্ষা। প্রতিযোগিতা একজন থেকে আরেকজনকে এগিয়ে যেতে সহায়ক, কর্মমুখি শিক্ষা জীবন ধারণের সহায়ক আর সৃজনশীলতা বুদ্ধি বিকাশের সহায়ক।

আমাদের দেশের যেই প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ছিল তার সাথে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিশাল ফারাক। ক্ষেত্রবিশেষে বলতে পারি অনেক কিছুই নতুন।

নতুন কোন কিছু প্রথমে অনেকেই মেনে নিতে চায় না বা মেনে নিতে পারেনা। কিন্তু আসতে আসতে এটা মেনে নেয় বা সয়ে যায়। নতুন কিছু নিয়ে যারাই আমাদের সামনে এসেছে যুগে যুগে আমরা তাদের পাগল, বেকুব সহ নানা কুৎসিত ভাষায় বর্সনা অবজ্ঞা করেছি আবার কেউ কেউ মারধর, শারীরিক মানসিক নির্যাতনেরও স্বীকার হয়েছে। এই তালিকায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরু, বিজ্ঞানী সহ অনেকেই রয়েছে।
ইসলাম ধর্মের গুরু ও রাসুল হযরত মোহাম্মদ (স) যখন শান্তির বার্তা নিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেছিলেন তখন তাকে পাগল, বেকুব, যাদুকর সহ নানা বর্সনা অবজ্ঞা এমন কি শারীরিক মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে।
রাইট ভ্রাতৃদ্বয় (অরভিল রাইট উইলবার রাইট) যখন বিমান আবিষ্কারের নেশায় একটার পর একটা পরীক্ষা চালাচ্ছিল তখন তাদেরকে তিরস্কার করার লোকের অভাব ছিল না।

তাই পরিবর্তনকে সহজভাবে কেউ মেনে নিতে না পারলেও পরিবর্তন একসময় সুফলই বয়ে নিয়ে আসে যদি সেই পরিবর্তনে থাকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নৈতিকতা। কিন্তু এই পরিবর্তনই একটা সমাজ, জাতি, দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে যদি এই পরিবর্তনে থাকে অসততা, অনৈতিকতা ও অবিচার। আর একটা পরিবর্তন একটা দেশকে নিঃশেষ করে দিতে যদি এই পরিবর্তনে থাকে তৃতীয় কোন শক্তির অসৎ উদ্যেশ্য আর পরিবর্তনকারীর কোন কিছু পাওয়ার লোভ।

যেহেতু আজকের আলোচনা দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাই আলোচনার বাহিরে যাবনা। ব্রিটিশ আমলের শিক্ষাব্যবস্থা থেকেই যদি শুরু করি তাহলে বলব ব্রিটিশরা আমাদের দেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে গেছে সেটাকেই আমরা অনেকেই বস্তুবাদী শিক্ষা ব্যবস্থা বলি। এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিরেট কতিপয় উদ্দেশ্যেকে সামনে রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। তাই এটাকে বস্তুবাদী শিক্ষা ব্যবস্থা বলাটাই যুক্তিযুক্ত। ব্রিটিশ শাসকরা এদেশে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিলো ভারতীয় উপমহাদেশের নাগরিকদের মধ্যে থেকে একদল শিক্ষিত মানসিক গোলাম ও প্রভু ভক্ত লোক তৈরি করা, যারা জাতিগতভাবে ভারতীয় উপমহাদেশীয় থাকবে, কিন্তু মানসিকভাবে ব্রিটিশদের ধ্যান ধারণায় পরিচালিত হবে এবং ব্রিটিশদের উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন করবে ভারতীয় উপমহাদেশে।

ব্রিটিশদের বিদায় করে, পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে আমরা স্বাধীন একটি দেশ পেয়েছি কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পাইনি। এর জন্য দুইটা কারন উল্লেখযোগ্য। এক, এটার সবচেয়ে বড় কারন হল আমরা আমাদের মন-মানসিকতায় এখনো মুঘল, সুলতান ও ব্রিটিশদের শেখানো গোলামী থেকে বের হতে পারিনি। আমাদের রক্তে এখনো গোলামী রয়ে গেছে। দুই, আমাদের লোভ। আমরা সবাই ততক্ষণ পর্যন্ত সৎ যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সুযোগ না পাই। তাই আমাদের দেশে যারা বিরোধীদল তারা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে কিন্তু ক্ষমতা পেয়ে সুযোগ পাওয়া মাত্রই তারাই আবার বড় বড় অন্যায়, অনিয়ম শুরু করে।

কথায় কথা টেনে আনে তাই মাঝে মাঝে প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে যাই। আবার ফিরে আসি প্রসঙ্গে আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। প্রথমেই যেমন বলেছিলাম একমাত্র শিক্ষাব্যবস্থাই একটা জাতিকে সবার থেকে আলাদা করে তোলে তেমনি এই শিক্ষাব্যবস্থাই একটা জাতিকে ধ্বংস করে দেয়।
একটি প্রচলিত কথা আছে, কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সেই জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস কর।

“শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, যদি কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাও তবে তার শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দাও। তার শিক্ষকদের অবহেলা কর, হাসির পাত্র বানিয়ে দাও যাতে তাদের শেখানোর ইচ্ছাটাই নষ্ট হয়ে যায়।

আফ্রিকার সবচেয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ইউনির্ভাসিটি অব সাউথ আফ্রিকা যার প্রবেশদ্বারে লেখা রয়েছে – “কোন জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক হামলা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দরকার নেই। বরং সেই জাতির শিক্ষার্থীদের পরিক্ষায় প্রতারণার সুযোগ দিলেই হবে। কারণ এভাবে পরিক্ষা দিয়ে তৈরি হওয়া ডাক্তারদের হাতে রোগীর মৃত্যু হবে।
ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা নির্মিত দালান-কোঠা, ইমারত ধ্বংস হবে এবং অর্থনীতিবিদের দ্বারা দেশের আর্থিক খাত দেউলিয়া হবে। এ ছাড়া বিচারকদের হাতে বিচারব্যবস্থার কবর রচনা হবে। সুতরাং শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মানে হলো একটি জাতির অবলুপ্তি।”

- Advertisement -

বিগত সাল গুলোতে শিক্ষাব্যবস্থায় নকল, নিয়মিতভাবে প্রশ্ন ফাঁস। স্কুল পরীক্ষা, পাবলিক পরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষা সব পরীক্ষাতেই প্রশ্ন ফাঁস একটা জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে আইসিইউতে নিয়ে গেছে। বাকি ছিল শুধু মৃত্যু। বেশ কিছুদিন করে বর্তমান পরিবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার যেসকল ভিডিও দেখতেছি তাতে মনে হচ্ছে এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৃত্যু ঘটিয়ে আমাদের জাতিকে ধ্বংশ করে দিবে।

আগেই বলেছিলাম পরিবর্তন ভাল কিন্তু এই পরিবর্তন যদি কারো স্বার্থে হয়, কোন অসৎ উদ্যেশ্যকে বাস্তবায়নের জন্য হয় তাহলে এই পরিবর্তন ধ্বংস নিয়ে আসে। দেশের যাদের এখনো বিন্দুমাত্র নিরপেক্ষ বিবেক আছে তারা এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা দেখে ভাবার আগেই বলে দিতে পারবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন এক অশুভ কালো ছায়া পড়েছে। এই অশুভ কালো ছায়া আমাদের নতুন প্রজন্মকে এমন একটা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত করে তুলতে চাচ্ছে যাতে তারা প্রতিযোগিতামুলক কর্মমুখি ও সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মদক্ষ না হয়ে নকল, অসাধু উপায়, প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা কোন জ্ঞান অর্জন না করেই পাশ করে এবং অদক্ষ, অসাধু, বুদ্ধি চিন্তায় পিছিয়ে থেকে ঐ অশুভ ছায়ার গোলামী করে যেতে পারে।

কথায় আছে, কোয়ালিটি ইজ বেটার দ্যান কোয়ানটিটি। আমাদের এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় কোয়ানটিটি বের হচ্ছে কিন্তু কোয়ালিটি কমতেছে। তাই আজকে মেধার সর্বোচ্চ পুরস্কার “এ প্লাস” পাওয়া ছাত্রছাত্রীরা বলে, আমি জিপিএ ফাইভ পেয়েছি- I am GPA five. কেউ কেউ GPA এর পূর্ণরুপ বলতে পারেনা আর কেউ কেউ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দ্বারা পরিচালিত “Operation Searchlight” কে বলে ডাক্তাররা লাইট দিয়ে অপারেশন করাকে আর কেউ কেউ ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে গুলিয়ে ফেলে

নতুন পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার যে কয়েকটি ভিডিও আমার চোখে পড়েছে তাতে দেখলাম শিক্ষকদের ট্রেনিং দিচ্ছে কিভাবে সাইকেল চালাতে হয়, হাঁস কিভাবে ডাকে ও চলে ইত্যাদি ইত্যাদি। শিখানোর ধরন এমন যে তা যে কোন মানুষের কাছে হাস্যকর মনে হবে। এতে করে আমাদের শিক্ষকদেরকে হাসির পাত্র বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। হাসির পাত্র হয়ে তাদের শিক্ষা দানের মন-মানসিকতা শুধু নষ্টই না ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তি উন্নয়ন থেকে উন্নয়ন ঘটিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি যেমন আমাদের জন্য আশীর্বাদ যেমনি অভিশাপ ও কম নয়। বর্তমান পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বইয়ের চেয়ে মোবাইল ই বেশি তুলে দেওয়া হচ্ছে। একটা সময় আমরা সবাই মিলে টেলিভিশন দেখতাম কিন্তু সন্ধার পর আমাদেরকে অন্যরুমে পাঠিয়ে দেওয়া হত পড়াশোনা করার জন্য। প্রতিটা ঘর থেকে জোরে জোরে পড়ার আওয়াজ ভেসে আসতো। কিন্তু সময়ের সাথে তা আজকে প্রায় বিলুপ্ত। এখন প্রযুক্তির কল্যাণে বইয়ের যায়গা দখল করে নিয়েছে স্মার্ট ফোন। কিন্তু যেহেতু মানুষের নেগেটিভ জিনিসের প্রতি আগ্রহ বেশি তাই এই স্মার্ট ফোন পড়াশোনার চেয়ে গেইমিং আসক্তি বাড়িয়ে দিতে পারে এমনকি পর্ণ আসক্তিও বানিয়ে দিতে পারে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও এই স্মার্ট ফোনকে বলা হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় নেশা “ডিজিটাল নেশা”। আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যদি ছোট বেলা থেকেই এই ডিজিটাল নেশা পেয়ে বসে তারা একটা সময়ে সমাজ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে পড়বে। একাকীত্ব তাদের পেয়ে বসবে। এই একাকীত্ব তাদেরকে নিয়ে যাবে ডিপ্রেশনের দিকে। এই ডিপ্রেশন তাদের প্রতিযোগিতার আগ্রহ কমিয়ে দিবে, কর্মমুখি শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সৃজনশীল বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা হারিয়ে যাবে তাদের কাছথেকে। আমরা জাতি হিসাবে পিছিয়ে পড়বো অন্য জাতি থেকে।

এখন অনেকেই হয়তো যুক্তি দিবে, ইউরোপ আমেরিকা জাপান সহ উন্নত দেশ গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। তাদের বুঝতে হবে যে এসব দেশের মানুষের চিন্তাচেতনার সাথে আমাদের দেশের মানুষের চিন্তাচেতনার এখনো আকাশ পাতালের থেকেও বেশি পার্থক্য৷
যেহেতু প্রথমেই বলেছি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমার পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে এখন ইউরোপেই কাজ করতেছি, আমি দেখেছি এবং দেখতেছি তাদের মন-মানসিকতা ও আমাদের মন-মানসিকতা। তারা পরীক্ষার হলে নকল তো দূরের কথা একজন আরেকজনের থেকে সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা দিবে এই চিন্তাই তাদের মাথায় নেই। আর আমরা অন্যের পেপার দেখে লেখা, নকল করে পরীক্ষা দেওয়া এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে পরীক্ষা দিতেও একটুও লজ্জিত হইনা। আমাদের মন-মানসিকতা এতই নিচু যে আমরা ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাদের প্রশ্নপত্রও ফাঁস করে ফেলি যেখানে এসব উন্নত দেশের বাচ্চারা এই বয়সে পরীক্ষা কি জিনিস সেটাই বুঝে না।

আজকে এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা যারা করেছে তাদের ছেলেমেয়ের কত শতাংশ দেশে পড়াশোনা করে এই প্রশ্ন এখন সবার মনে। এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে যারা সাফাই দিচ্ছেন তাদের ছেলেমেয়েরা কেন দেশে নেই।

এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের গরীব, নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সন্তানদের প্রতিযোগিতার সুযোগ কমিয়ে দিবে, সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে দিবে। উন্নতবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনার করার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিবে। এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের গরীব, নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের সন্তানদের গোলাম বানানো ষড়যন্ত্র যাদের সন্তানরা টাকা খরচ করে বিদেশে গিয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ নেই।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থবিদ্যার যে প্রবণতা সেটার পরিবর্তন আমিও চাই। ক্লাস ওয়ান থেকেই পরীক্ষার যে চাপ সেটার পরিবর্তন আমিও চাই। সৃজনশীলতার মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পড়াশোনা সেটা আমিও চাই। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে পড়াশোনা আমিও চাই। কিন্তু সেটা হোক দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে। সেটা কোন প্রতিবেশী অশুভ কালো ছায়ার ইশারায় নয়। এই প্রতিবেশী অশুভ কালো ছায়া সরাসরি দেশ দখলে না নিয়ে ব্রিটিশদের মত এমন শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের উপর ছাপিয়ে দিচ্ছে যাতে আমরা শিক্ষিত হব ঠিকই কিন্তু সেটা সৃজনশীলতায় নয়, প্রতিযোগিতায় নয়, কর্মদক্ষতায় নয়। যাতে তাদের উপর আমাদের নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়। তারা আমাদের মেধাকে ধ্বংস করে আমাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক দখলে নিতে চায়। যেখানে আমরা কোয়ানটিটির দিক দিয়ে শিক্ষিত হব কিন্তু কোয়ালিটির দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়বো।

তাই যারা এই শিক্ষাব্যবস্থা প্রনয়ণ করেছেন এবং এই শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই দিচ্ছেন তাদের আহবান করবো দাসত্বের চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন চিন্তা দিয়ে ভাবুন। নিরপেক্ষ চোখ দিয়ে দেখুন। আমাদের মত সাধারণ মানুষের চোখে যখন এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার এত ভুল চোখে পড়েছে আপনাদের শিক্ষিত চোখে আরও বেশি ভুল বেরিয়ে আসবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচান, জাতিকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। এই জাতিকে গোলামীর জীবন থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন দেশে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দিন। না হয় আমার আপনার পরবর্তী প্রজন্ম গোলামী ও দাসত্বের জীবন বরণ করে নিবে সময়ের সাথে সাথে।

তৃতীয় কোন শক্তির অসৎ উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন আর পরিবর্তনকারীর কোন কিছু পাওয়ার লোভে যেই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠতেছে সেই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করে প্রতিযোগিতা, কর্মদক্ষ ও সৃজনশীল বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে এই পরিবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তনের জোর দাবি জানাই।

লেখক: ইঞ্জিনিয়ার ও সাংবাদিক, ওমর ফারুক (শামীম)

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More