নূপুর বাধা পায়ে বুঝি খুঁজছিস আনন্দ
শিকল পায়ে করে নিলি মনের কপাট বন্ধ
নাচছিস আবার ঘুরে ফিরে
আজন্ম পাপ তো তোকেই ঘিরে।
আরে বেহুশ ! পা দুটো তো আগেই বাঁধা
লুকিয়ে আছে জীবন ধাঁ ধাঁ
ছিলো বুঝি তোর জীবনে সোনালী দুপুর ?
বিকেলে তুই তাকিয়ে দেখিস বেদনার সুর
কেন হলো, কখন হলো বিভোর চারিপাশ
পাশের যতো জওয়ান মরদ নিলো সব সুবাস
প্রশংসাতে মাতিয়ে বলে “সাবাস ! সবাস !
তোমার মাঝেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার আবাস” ।
আরে বোকা, ভেবে দেখতো কী আর পেলি?
মেধার আবাদ শেষে কেবল ফসল তুলেদিলি
সুদ আসলে লাভটাও যে তাকেই দিয়ে গেলি।
দেহের ঘাম পায়ে ফেলে পসরা সাজিয়ে নিলি
নিজের জন্য জমা করলি নির্ভেজাল কিছু গালি।
ওরে বেভুল, ওরে বোকা, ওই চোখের পানে তাকা
দৃষ্টিটা তোর দেখ না করে একটুখানি বাঁকা
কথার ছলে দেখা যাবে ঘৃণার ছবি আঁকা।
সোনার নূপুর পায়ে দিয়ে পাচ্ছিস কি সুখ ?
আমি বলবো, ওটাই তোর আজীবনের দুঃখ
তোর বাঁধনে আনন্দ নেয় কুপুরুষের চোখ।
সুরের সাথে শব্দ সে তো শিকলেরও হয়
নূপুর নামের শিকলটা যে করলো তোকে ক্ষয়
কী আর হবে তাল মিলিয়ে মেলতে পারবি ডানা ?
সুখ নেবে রোজ চোখ বুজে সেই কাপুরুষের ছানা।
সাঁজ বেলাতে দেখবি তাকে সেজেছে সে দ্রষ্টা
বাঁকা চোখে হেসে বলছে, ‘ হতচ্ছাড়ি তুই নষ্টা, তুই ভ্রষ্টা !
কবি ও সাহিত্যিক আয়েশা সীমা।
