নিজস্ব প্রতিনিধি
যুবলীগের নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ঢাকা নিকেতনের অফিসে র্যাব পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান টাকা ও স্থায়ী আমানতের কাগজ পেয়েছে র্যাব। এ সময় এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে সাত বডিগার্ডসহ আটক করেছে র্যাব। আজ (২০ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে র্যাব পুলিশ জি কে শামীমের নিকেতনের ডি ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাসা ঘিরে ফেলে।
জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে শোনা গেলেও যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী দাবি করেছেন, শামীম যুবলীগের কেউ নয়। তিনি বলেন, জি কে শামীমের সঙ্গে যুবলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।
জানা গেছে, আকাশসমান ক্ষমতার দাপটে একসময়ের যুবদল নেতা ক্ষমতার পরিবর্তনে হয়ে যান যুবলীগ নেতা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহসভাপতিও তিনি।
অভিযান চালানোর আগে জি কে শামীমের আরেকটি বাসা থেকে ডেকে আনা হয়। সে বাসাটিও নিকেতন এলাকায়। জি কে শামীমকে আটক করে পরে র্যাব অভিযান চালায়। জি কে শামীমের অফিস থেকে মদের বোতল, বিপুল পরিমান টাকা, অস্ত্র পেয়েছে অভিযানের সময় র্যাব।
জি কে শামীমের অফিসে ডুকতে প্রথমে চোখে পড়ে বিশাল একটি গ্যারেজ। ওই গ্যারেজটির পাশেই কাঁচ দিয়ে ঘেরা চোখ ধাঁধানো অফিস। ওই অফিসেই বসেন জি কে শামীমের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা।
কক্ষের পাশে দুই পাল্লার একটি কাঠের দরজা। দরজার দামি কাঠের চৌকাঠ চোখে পড়ার মতো। দরজা দিয়ে ঢুকতেই ভেতরে তিন তলায় যাওয়ার সিঁড়ি। মার্বেল টাইলসের সিঁড়িটিতে রয়েছে নকশা করা কাঠের রেলিং। চারতলা পর্যন্ত উঠে গেছে সিঁড়িটি। উপরে উঠতেই শরীল শীতল হয়ে আসে। পুরো বাসাটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত।
তৃতীয় তলায় একটি রোম অনেক সুন্দর। অনেক টাকা ব্যয়ে রোমটা সাঁজানো হয়েছে। ধারনা করা যেতে পারে। কিন্তু কি পরিমান টাকা ওই রুমটিতে খরচ করা হয়েছে তা বলা মুশকিল। রোমটি খোব বেশি লম্বা না। প্রায় ৩০ ফুট হতে পারে। দামি দামি সব আসবার পত্র। এই রোমটিতেই বসেন জি কে শামীম। ওই রোমের টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে টাকার বান্ডিল, মদের বেশ কয়েকটি বোতল ও অস্ত্র।
রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলেও গণপূর্তে এ শামীম ছিলেন ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজ।
র্যাব পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত টাকা প্রায় সোয়া কোটি। এফডিয়ার ১২৫ কোটি টাকার। অফিসের চতুর্থ তলায় ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ওয়ার্কিং সেকশন এবং তৃতীয় তলায় অ্যাকাউন্টস সেকশন। উদ্ধার হওয়া টাকা গুনে হাপিয়ে যাওয়ার অবস্থা। ৭টি অস্ত্রসহ নগদ ১০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়। জি কে শামীম একসময় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের ক্যাডার ছিলেন। সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি ছিল তার পেশা। ওই সময় মির্জা আব্বাসের ডানহাত হিসেবে গণপূর্ত ভবনের সকল টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন।
জানা যায়, ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষীর প্রটেকশনে চলেন জি কে শামীম। সবার হাতেই শটগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। যাকে মাঝখানে রেখে তারা পাহারা দেন তিনি উচ্চতায় পাঁচ ফুটের কিছু বেশি।
