
নিজস্ব প্রতিবেদক:- নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার তারাব এলাকার সবুর ভূঁইয়ার মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। সবুর ভূঁইয়ার পরিবারের দাবী এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না, এটা হত্যা। অন্যদিকে এলাকাবাসী বলছে- স্ট্রোকে মারা গেছেন সবুর ভূঁইয়া, বুধবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় নিজ বাড়ীতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সবুর ভূঁইয়া, পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন ইউএস-বাংলা হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সবুর ভূইয়াকে মৃত ঘোষনা করেন। এলাকাবাসী আরো জানান- মৃত সবুর ভূঁইয়াকে নিয়ে একটি পক্ষ রাজনৈতিক হীন চরিতার্থ হাসিলে লিপ্ত, প্রতিপক্ষের উপর প্রতিশোধ নিতে মৃত লাশ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে সবুরের পরিবার ও তাদের ইন্ধনদাতারা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ০৮/০৯/২৩ তারিখে তারাব এলাকার একজন মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজে যান মৃদুল ভূঁইয়ারা, মৃত ব্যক্তির বাড়িতেই পূর্ব শত্রুতার কারনে সবুর ভূঁইয়া ও তার ছেলে শুভ মৃদুল ভূইয়াদের উপর চাইনিজ কুড়াল, রাম দা, চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে, সবুরের ছেলে শুভর হামলায় মৃদুল ভূঁইয়া ও মিথুন ভূইয়া এবং মৃদুলের বড় ভাই গুরুত্বর আহত হন। পরবর্তীতে সবুর ভূঁইয়া ও তার ছেলে শুভকে আসামী করে মামলা করেন মৃদুল ভূঁইয়া। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সবুর ভূঁইয়াকে গ্রুেফতার করেন । ১৬ (ষোল) দিন কারাভোগের পর গত ২৪/০৯/২৩ইং তারিখে জামিন হয় সবুর ভূঁইয়াার। ২৭ তারিখ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হলে পরিবারের লোকজন তাকে ইউএস বাংলা হসপিটালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। ইউএস বাংলা হসপিটালের ইমার্জেন্সি বিভাগের ডিউটি ডাক্তার রোমান জানান- প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে স্ট্রোক জনিত কারনে সবুর ভূঁইয়ার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সবুরের পরিবার বলছে- এটা স্বাভাবিক মৃত্যু না, মৃদুলদের হামলায় কারনে এই মৃত্যু হয়েছে, এটা হত্যা।
ইউএস বাংলা হসপিটাল থেকে সবুরের লাশ প্রথমে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসা হয় এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় পোস্টমর্টেম করানোর জন্য। পোস্টমর্টেম করার পর এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের ই.এম.ও ডাঃ নাজমুল হাসান বিপ্লব জানান- শুনেছি ২০ দিন আগে তারা মারামারি করেছে এবং সবুরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিলো, ৪/৫ দিন আগে সবুর জামিনে এসেছিলো এবং ২৭ তারিখ মারা যান। মৃত্যুর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাক্তার নাজমুল বলেন- প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে স্ট্রোকে মারা গেছেন, শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে ভিসেরা রিপোর্ট আসলে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় কাউন্সিলর আমির হোসেন জানান- সবুর ভূঁইয়া ও মৃদৃল ভূইয়াদের মধ্যে মারামারি হয় এবং উক্ত মারামারির কারনে সবুর ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়, সবুর ভূঁইয়া ১৬ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করেন এবং ২৭ তারিখ লোকজন থেকে শুনতে পাই সবুর ভূঁইয়া স্ট্রোক করেছ, হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন ।
