এক স্বামী তার স্ত্রী কে বললো আচ্ছা বউ তোমাদের নাকি ষোল কলা রূপ ? একটা রূপ দেখাও না।
স্ত্রী বললো না থাক।
স্বামী বললো আমাকে দেখাতে হবে।
স্ত্রী বললো ঠিক আছে।
স্বামী চলে গেল।
স্ত্রী এক লোককে কিছু টাকা দিয়ে বাজার থেকে একটি ইলিশ মাছ এনে ঘরে রেখে দিল। সন্ধ্যার পর স্ত্রী আবার সেই লোককে কিছু টাকা বকশিশ দিয়ে খেজুর গাছে ইলিশ মাছটি ঝুলিয়ে বেঁধে রাখলো।
রাতের বেলা স্বামী বাড়ি আসলো, এসে জিজ্ঞাসা করলো কিগো বউ এক কলা রূপ দেখাও না।
স্ত্রী বললো চলো পুকুর পাড়ে গিয়ে জোৎস্নার আলো দেখি আর তোমাকে ও এক কলা রূপ দেখাই।
দুজনেই পুকুর পাড়ে গেল।
স্ত্রী যে গাছে ইলিশ মাছ বেঁধে রেখেছে তার নিকট গিয়ে বললো দেখ খেজুরের গাছের ফাঁক দিয়ে জোৎস্নার আলো কত সুন্দর দেখা যায়।
স্বামী খেজুর গাছে তাকাতেই দেখতে পেল একটি ইলিশ মাছ ঝুলছে। বললো বউ দেখ খেজুর গাছে ইলিশ মাছ।
স্ত্রী বললো, কি আবোল-তাবোল বলছো।
স্বামী বললো আমি এখনই মাছটি গাছ থেকে পেড়ে আনছি। স্বামী খেজুর গাছ থেকে ইলিশ মাছটি এনে স্ত্রীর হাতে দিয়ে বললো, যাও মাছটি কেটে ভালো করে ভাজি কর আমি ভাত খাবো। এই বলে স্বামী চলে গেল।
স্ত্রী সুন্দর করে মাছটি কেটে ভালো করে ধুয়ে মরিচ হলুদ ও লবন দিয়ে মেখে মাছটি ভাজি করলো। ইলিশের প্রচুর তেল ও ঘ্রাণে জিবে জল আসার অবস্থা।
কিছুক্ষণ পর স্বামী এসে বললো বউ ভাত দেও। স্ত্রী ভাত দিল ঠিকই কিন্তু ভাজা ইলিশ মাছ দিল না।
স্বামী বললো, কি হলো ভাজা ইলিশ মাছ কোথায় ?
স্ত্রী বললো, আমি মাছ ভাজি করে হাত মুখ ধুয়ে এসে দেখি মাছ বিড়ালে খেয়ে ফেলছে।
স্বামী – কি বলিস এত কষ্ট করে মাছটা খেজুর গাছ থেকে পেড়ে আনলাম আর তুই বলছি মাছ বিড়ালে খেয়ে ফেলছে ? এই বলে স্ত্রীকে মারতে শুরু করলো।
স্বামী স্ত্রীর হৈচৈ শুনে তার বাবা মা ভাই বোন সবায় এসে জিজ্ঞেস করলো তোদের কি হইচে?
স্বামী – আমি এত কষ্ট করে ইলিশ মাছটা খেজুর গাছ থেকে পেড়ে এনে তাকে বললাম মাছটা ভাজি করতে, সে বলে মাছ নাকি বিড়ালে খেয়ে ফেলছে। সেজন্য তাকে মারছি।
এবার সকলে বললো আরে বলদ তোর মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। সকলে মিলে তাকে রশি দিয়ে বেধে রাখলো। তুই কেন বউয়ের গায়ে হাত তুললি। ইলিশ মাছ কি খেজুর গাছে থাকে? এই বলে সকলে তাকে মারধর শুরু করল।
কিছুক্ষণ পর….
স্ত্রী-কি গো স্বামী এই মাত্র এক কলা রূপ দেখাইলাম। আরো দেখবা।
স্বামী – না আমি আর দেখতে চাইনা। আ বুঝতে পারছি আসলেই তোমাদের ষোল কলা রূপ যা পুরুষেরা এত সহজে বুঝে না। এই জন্যেই বলে নারী বহুরূপী।
লেখক ও কবি মোয়াজ্জেম বিন আউয়াল।
