বিত্ত বা বৃত্ত; জগতের মতোই বিধি
কেউ ফকির,কেউবা ধনি
কেউবা মনে; কেউবা ধনে
কারো অভাব গুঁছেই না বুঝি!
জগতে সাদা কালো রং বেরংয়ের দেখা
জাত শ্রেণি ভেদাভেদ,আরো তামাশা
নিন্মবিত্ত মধ্যবিত্ত আরো উচ্চবিত্ত
সব বিত্তরাই নীতিতে আরো চাই নিত্য।
দুচোখে পড়ে, পথের ধারে,ভবঘুরে
দু হাত নাই কারো, কারো দু পা
কারো চোখহানী, কেউ লেংরা খোড়া
কারো অঙ্গহানী,কারো শরীর বুড়া।
তাদের যদি শ্রেণি বলি, আমি বলবো উচ্চ!
সমাজ তাদের নিন্ম বলুক,আমি বলি ফুলগুচ্ছ।
তাদেরও চাহিদা আছে, হয়তো ভিক্ষে করে চলে
ভাবুন তো, আমার মতো সব কি আছে?
তবুও তারা জীবন যুদ্ধের স্থলে।
আরো আছে ভীটেহীন! গুচ্ছগায়ে বাস,
দিন আনে দিন খায়, দেহখানা খাটায় বারোমাস
তাদেরও পেট আছে, ছেলে পুলে নাতি আছে
স্বপ্ন তাদের আকাশেই থাকে।
এদের বলবো কোন শ্রেণি? হুম, সমাজে গরীব তারা
তবে উচ্চ আসনের স্বপ্নদেখা সুখের চাঁদ-তারা
তাদের বিলাসীতা নেই, শুধু জীবন পারের চেষ্টা
ঠঁকানো বুঝে না, ঠঁকাতে জানে না, সরল যাত্রা।
আরো দেখি ঘর আছে, ৩ দিনের বেশি খাবার আছে
সমাজে চলে ভদ্রবেশে; স্বপ্নগুলো বুনতে থাকে
আজ সফল তো কাল বিফল
এভাবেই দিন কাটাতে থাকে; খুশি তারা ডাল-ভাতে।
সমাজ তাদের মধ্যবিত্ত বলে, কিন্তু আমি?
আমার কাছে তারাই হলেন চিপায় থাকা জাতি।
না পারে হাত পাততে, না পারে স্বজোড়ে কাঁদতে
কোনমতে চালায় সংসার, পারে বুকে দুঃখ বাঁধতে।
এবার আসুন দেখি! উচ্চবিত্তের দশা
লাখোপতি,কোটিপতি তাদের খেতাব ঠাসা
উচ্চ সঙ্গায় পাকা বাড়ি, থাকে দামী গাড়ি
কারো থাকে বহু নারী বাড়ি; থাকে জমিদারী।
তাদের থাকে চাকর বাকর, গরীব যারা ভবে
তাদের কাছে জিন্মি থাকে ; অভাবী যারা রবে
উচ্চবিত্তের প্রভাবে কেউ, ধনী হচ্ছে নিত্য
কেউবা ছলচাতুরিতে, হচ্ছে শুনি নিঃস্ব।
তাদের অভাব শেষ হয়নাকো, শততলায়ও দেখি রড
আরো করবে, জমি বাড়বে, সম্পদ হবে লট,
গাড়ী বাড়ির মডেল পাল্টায়; বাজার করে বিদেশ
কেউবা গরীব চাষার রক্ত চুষে করে শুধু আদেশ।
তবে কেউবা আছে দানবীর ; লোকদেখানো নয়
তাদের ধনের পোদ্দারিতে, জীবিকা গড়ে লয়।
তাদের মাঝে সমাজসেবক কত্ত আছে শুনি
হাতেম তাই খেতাব কারো, কারো খেতাব গুনি।
এবার বলুন, মনের ধনি কারা?
স্বপ্ন যাদের আকাশ ছোঁয়া, অল্পসুখে হেসে আত্নহারা
মানবকুলের সেবক যারা, মনটা যাদের মানুষ,
মানুষের উপকারে যাদের মনটা থাকে বেহুস।
কবি ও সাংবাদিক মাহাবুব আলম প্রিয়
রচনাকাল: ১৭.০৫.২০২০ইং
