ডেস্ক রিপোর্ট
চলতি কয়েক দিনের বৃষ্টির পানির সাথে বর্ষার পানি যোগ হয়েছে। এতে অনেক এলাকায় কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে। শত শত বাড়ি প্লাবিত। বসত ঘরে পানি ডুকে অনেকের মূল্যবান আসবার পত্র নষ্ট হচ্ছে। সাপ-বিচ্ছুর ভয় অতংকে অনেকেই নিরঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেই হয়ে পরেছেন ঘর বন্দি। কাজে বের হতে পারছেন না। যারা কাজে বের হচ্ছেন তারা অনেকেই একাধিক কাপড় নিয়ে বের হচ্ছেন।
এমন দৃশ্য নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার কাজীপাড়া উত্তর রূপসী, নোয়াপাড়া বিসিক নগরী। এখানকার প্রায় ২০০ পরিবারের লোকজনের ঘরে পানি।
স্থানীয়রা বলছেন, বৃষ্টির পানি জমাট বেঁধে কৃত্রিম বন্যার কবলে আমরা। বৃষ্টির পানি সরানোর জন্য যে ড্রেনেজ লাইন করা হয়েছে সে পাইপ দিয়েও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে পানি ডুকছে। বৃষ্টির পানির সাথে নদী থেকে পানি আসায় কৃত্রিম বন্যার কবলে আমাদের এলাকার প্রায় ২০০ পরিবার।
স্থানীয় তরুণ সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ জানান, আমাদের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখে রাস্তা করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকার পানি সরানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) আমাদের এলাকার পানি সরানোর জন্য ৪টা পানির পাম্প স্থাপন করে দিয়েছেন। রাত দিন এ পাম্প সচল থাকলে আশাকরি সপ্তাতের মধ্যে পানি থাকবেনা কোন বাড়িতে।
পৌর কাউন্সিলর হাজী হামিদ উল্লাহ সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নী। স্থানীয় জামদানী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সাধারন মানুষের জন্য রাজনীতি করি। এরাকায় পানি বন্দিদের খোঁজ খবর নিয়ে সাধ্য মতো সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উত্তর রূপসীর নিচু এলাকার সব ঘরে পানি। তবে কারও ঘরে হাঁটু পানি। অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। বিশুদ্ধ খাবার পানির সরবারাহর লাইনও পানির নিচে। পানি বন্দি লোকজনের মনে ভয় ও আতংক বিরাজ করছে, বিষাক্ত পোকা মাকরের ও সাঁপ বিচ্ছুর। শিশুদের নিয়ে অসহায় ভাবে আছেন এখানকার পানি বন্দিরা। অনেকের ঘরে খাবারও নেই বলে জানিয়েছেন।
পানি বন্দি রকিব, রমজান, ছালমা, রহিম বলেন, আমাদের ভয় ছোট-ছোট সন্তানদের নিয়ে। তারা পানিতে পরে প্রাণ হারাতে পারেন। আমাদের এলাকার খাল বন্ধ করেফেলেছে দখলদাররা। খাল পরিস্কার থাকলে পানি প্রবাহমান থাকত। আমাদের এলাকার পানি সরানোর ব্যবস্থা করার জন্য আবুল কালাম আজাদ ভাই মন্ত্রী স্যারের কাছে গিয়ে ৪টা পাম্প আনছে। এখন নদী থেকে পানি আসা বন্ধ করতে হবে। তাহলে আমাদের পানি থাকবেনা।
এ বিষয়ে তারাব পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী জেড এম আনোয়ার তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নদী থেকে ড্রেনের লাইন দিয়ে পানি ডুকছে আমার জানা নেই। তবে এমন হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নিচ্ছি বন্ধ করার জন্য।
