রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ত্যাগীরা স্থান না পেলে, আন্দোলনের হুশিয়ারী
হামলা মামলার পরেও সরব ছাত্রদল। রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল ত্রিভাগে বিভক্ত। সুযোগ নিচ্চে বিরোধীরা। ত্যাগীদের বিরোদ্ধে বহু মামলা। সুবাধাবাদীরা পদ পেতে মরিয়া। চলছে লবিং। বলয়কে কাজে লাগাতে যাচ্ছেন সুবিধাবাজরা। কমিটিতে ত্যাগী মূল্যায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি। উপজেলা ছাত্রদল সে কমিটি মানবেন না, যে কমিটিতে সুবিধাবাজরা পদধারী হবেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতাদের অন্তঃকোন্দলে ত্রিভাগা বলয়ে বিভক্ত থাকার সুযোগে চাঙ্গা ক্ষমতাসীন আওয়ামিলীগ। শুধু তাই নয় দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলে ১৯৯৫র পর প্রায় ২৪ বছর পেরিয়ে গেলে নতুন কমিটি দিতে পারেনি তারা। কমিটিতে আধুরাই মাতাব্বর। একাধীক সন্তানের পিতারা এখনও ছাত্রদলের পরিচয় দিচ্ছেন, কমিটি না হওয়ার কারণে। কমিটির প্রয়োজনিয়তাকে গুরুত্ব দেয়নী দলের বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের নিজেদের বিভক্তির কারনে।
রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির মাঠে নামতে না পারলেও ছাত্রদল বিভিন্ন সময় ছাত্রদল রাজ পথে নেমে এসেছেন। মামলা হামলার শিকার হয়েছেন বহু নেতা। দলের স্বার্থে মামলা হামলার শিকার হলেও তারা পদ-পদবী পাচ্ছেন না। তবে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতারা ত্যাগীদের পদ দিবেন বলে বিভিন্ন সময় বলেছেন।
ছাত্রদলের কমিটি করতে অপারগ বলে দীর্ঘ বছর ধরে এ এলাকায় বিএনপি কোনঠাসা বলে মনে করছেন রূপগঞ্জ উপজেলার সচেতন মহলসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশ্লিষকদের মতে, ছাত্রদলের কমিটি না থাকলেও এ অঞ্চলে ছাত্রদলের নানারকম সক্রিয়তার কারণে বিএনপির রাজনীতিতে মাঝে মাঝে প্রাণ ফিরে আসে।
নাম প্রকাশ না করার কথা বলে কয়েকজন প্রবীণ বিএনপির নেতা বলেন, গত বছর জেলা ছাত্রদল ছাত্রদল নেতা আবু মোঃ মাসুমকে আহবায়ক করে ৪১সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু রূপগঞ্জের এক ব্যাবসায়ী নেতা প্রভাব ও দেন দরবার খাটিয়ে তখন ঐ কমিটি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে স্থগিত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় নতুন কমিটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুতি চলছে জোড়ালো ভাবেই। আবাও সে একি পথে ব্যবসায়ী হাটছেন। এতে দলে ক্ষতিসহ ত্যাগীদের পদ বঞ্চিত করার পায়তারা চলছে।
সূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু প্রভাব খাটাচ্ছেন তার বলয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করার জন্য। দিপু বিগত দিনে যে অপচেষ্ঠা করেছেন এবারও তাই করার চেষ্ঠায় আদাজল খেয়ে চালাচ্ছেন লবিং। ছাত্রদলকে ভালবেসে বহু মামলা হামলার শিকার কয়েকজন অভিযোগ তুলেছেন রূপগঞ্জ ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাদের পদ বঞ্চিত করে অযোগ্যদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে।
বেশকয়েকজন সক্রিয় নেতা বলেন, দিপু ভূইয়া নিজের বলয়ের ছেলেদের কমিটিতে আনার জন্য যারা বিগতদিনে রাজপথে সক্রিয় থেকে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু হামলা মামলা, জেল জুলুমের পর ও ছাত্রদলের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছেন তাদের বাদ দিয়েই কমিটি করার জন্য চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। আমরা তৃণমূল ছাত্রদল এটা কোনভাবেই মেনে নেবো না। দরকার হলে রূপগঞ্জের রাজপথে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের যৌক্তিকতা আদায় করে নেবো।
এই বিষয়ে আরও একাধিক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করে বলেন, একাধিক বলয় দৃষ্টি করে অনেকেই আতাত করে চলেছেন। এখন তারা দলের পধ দখলে নিতে চান। দিপু নিজের চাচাত ভাইয়ের জন্য ভোট চেয়েছেন। ব্যারিষ্টার আরিফুল ইসলাম এখন নৌকার চেয়ারম্যান। এছাড়াও যারা নিজের আখের ঘুছাতে সরকার দলীয় নেতাদের আনুগত্য করে রূপগঞ্জে বিএনপির সর্বনাশ করেছেন তারা এখন মরিয়া লবিং করে বদ হাকাতে।
এসব বিষয়ে ক্ষুদ্ধ ছাত্রদলে অনেকেই। তারা বলছেন, যে সকল ছাত্রনেতারা দলের কোন কাজে কখনো সক্রিয় ছিলো না তাদের কমিটিতে কোন পক্ষ স্থান করে দিলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ইং সনে রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার নতুন কমিটির আশ্বাস দিয়ে পুরনো কমিটি বাতিল করা হয়। এর আগে ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ অঞ্চলের নমিনেশন বির্তকে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাবেক সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার ও জেলা বিএনপির সদস্য দিপু ভূইয়া ত্রিভিবক্ত হয়ে পড়েন। এরপর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
তবে তখন থেকেই খাতা কলমে অনুমোদন ছাড়াই উপজেলা ছাত্রদলের হাল ধরেন আবু মোঃ মাসুম, আজিম সরকার, সুলতান মাহমুদ, মেহেদী হাসান রিপন, ওমর ফারুক আপন, আকিব হাসানদের নেতৃত্বে রাজ পথ চাঙ্গা হয়। সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে এ কমিটির সবকটা নেতা একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন।
রূপগঞ্জের রাজপথে মাঝেমধ্যে খুব সক্রিয়তার সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকার আন্দোলনে সংগ্রাম চালিয়ে যেতো এবং বেগম খালেদাজিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে এদের নেতৃত্বে রাজপথে ছাত্রদল খুব সক্রিয় ছিল। প্রতিটি নেতার নামে ২০এর অধিক মামলা ও প্রত্যেকেই বেশ কয়েকবার কারাবন্দি হোন।
শুধু তাই নয় দল ক্ষমতায় না থাকলেও দলীয় কর্মসূচী পালনে এসব ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে রাজপথে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে বয়সের ক্রাইটেরিয়াতে আবু মোঃ মাসুম, আজিম সরকার, মেহেদি রিপন ছাত্রদলে টিকতে না পারলেও স্থানীয়দের দাবী ত্যাগী, নির্যাতীত, অবদান বিবেচনায় সুলতান মাহমুদ কে উপজেলা ছাত্রদলে ও আকিব হাসান মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় দায়িত্ব দেয়ার। বিএনপি ও ছাতদলের একটি বিরাট অংশ তাই চায় জানা গেছে।
অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ চায় যাদের বিগতদিনে দলের জন্য কোনদিন কর্মকান্ডে ছিলনা, ছিলনা দলের জন্য অবদান, ২০১৮র ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করা এবং যাদের পরিবার আওয়ামীগ ঘেষা এমন একজনকে নিয়ে প্রার্থী করা।
ইতিমধ্যে এদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্নভাবে রূপগঞ্জ ছাত্রদলের সকল স্তরের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। সবার এককথা আ’লীগের সাথে আতাতকারী কেউ ছাত্রদলের কমিটিতে পুনরবাসন করলে কঠোর আন্দোলন, যা আমাদের পক্ষে কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব বলেন ২৪ বছর পর হলেও আমরা নতুন কমিটি দিতে যাচ্ছি। যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন কোন প্রকাব প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। ছাত্রদল চলবে ছাত্রদলের মত।
রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, বর্তমান জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম বলেন যাদের দলের জন্য ত্যাগ, শ্রম রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের রোষানলে পড়ে মামলা হামলায় জর্জরিত হয়েছেন তাদেরই পদায়ন করতে হবে। এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সুলতান মাহমুদ, আকিব হাসান এদের হাতেই হাতেই দায়িত্ব দিলেই ছাত্রদল সামনে এগিয়ে যেতে পারবে আমার বিশ্বাস।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা আবু মোঃ মাসুম বলেন, কোনপ্রকার প্রভাব খাটানোর কেউ চেষ্টা করবেন না। ছাত্রদলকে ছাত্রদলের মত চলতে দিন। যদি রূপগঞ্জ ছাত্রদল নিয়ে কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে তাহলে সমুচিত জবাব কিভাবে দিতে হয় তা আমাদের জানা আছে।
