আমি লুলা মানুষ,রান্না করমু চাউল নাই!
জাগো বাংলাদেশ রিপোর্টঃ বাবা আমি লুলা মানুষ, বিকালে রান্না করমু ঘরে একমুঠ চাউল নাই। বাবারা শোনেন, আমার জামাই নাই। এক ছেলে থাকতে আজ ছেলেও নাই। এমন একটা রোজা যাইতাছে মুড়ি, বুট খাইতে পারি না। আগে শরিলে জোড় আছিল কুদুর মার্কেট ঝাড়– দিয়া পরিষ্কার রাখতাম। বাজারের দোকান মালিকরা আমাকে যা দিত তাই খাইতাম। এমন করে কথাগুলো বলছিলেন হাওয়াতুন বিবি (৯০)।
আজ (২৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিংরাব স্কুল মাঠে ঈদ সামগ্রী উপহার নিতে এসে, না পেয়ে এমনভাবে তার মনের কষ্টের কথাগুলো জানালেন হাওয়াতুন বিবি। তিনি আরও বলেন, আমার বয়স ৯০। এখনও বয়স্ক তালিকায় আমার নাম উঠেনী। আর কবে উঠবে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বয়স্ক বৃদ্ধা হাওয়াতুন বিবি রূপগঞ্জ ইউনিয়নের জাঙ্গীর গ্রামের মৃত জমির আলীর স্ত্রী। তার প্রতিবেশী জাহানারা বেগম জানান, এমন নিরিহ, অসহায় মানুষ যদি বড়লোকদের দান খয়রাত না পায় কষ্ট লাগে। আর কয়দিন বাঁচব এ মহিলা। সরকারের লোকজনও হাওয়াতুন বিবির পাশে দাঁড়াতে পারত।
রূপগঞ্জ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা আনছর আলী নামের একজন, পুরো ইউনিয়নব্যাপী ৫০০০ হাজার অসহায় লোকজনের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেয়াইজ দেয়ার র্কাযক্রমের অংশ হিসেবে আজ (২৯ এপ্রিল) রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বিংরাব এলাকায় ২০৩ জনের মাঝে এ উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন।
২০৩ জনের তালিকায় হাওয়াতুন বিবি (৯০) এর নাম ছিলনা বলে সে উপহার না পেয়ে লাঠি বর দিয়ে হাটছেন আর কষ্টের কথাগুলো বলছেন।
এসময় আনছর আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ-১, রূপগঞ্জ আপসনের নির্বাচিত সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি’র নির্দেশনায় এ কাজ করে যাবেন। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের প্রতিটা ওয়ার্ডে অসহায় লোকজনের তালিকা করে এ উপহার দেয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, হাবিবুর রহমান হারেজ, আব্দুল মান্নান মুন্সিসহ স্থানীয় সরকার দলের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা।
