নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন । স্ট্যাটাসে তিনি সংগঠনের নীতি আদর্শ পরিপন্থী গর্হিত অপরাধ করেননি বলে দাবি করেছেন।
গোলাম রাব্বানীর এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নুসরাত জাহান শিমু ।
তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:
ছাত্র নেতা গোলাম রব্বানী আপনাকে বলছি , ”বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে আবেগ ভালবাসার এই প্রাণের সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কোনো অপরাধ করিনি’
আনীত অভিযোগের কতটা ষড়যন্ত্রমূলক অতিরঞ্জিত সময় ঠিক বলে দিবে । আপনার এই বক্তব্য থেকে জাতিকে আবারও এটা জানতে চাইছেন যে, নেত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে কিন্তু আপনি হয়তো ভুলে গেছেন যে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ভুল বোঝালে তিনি ভুল বুঝবেন এমন মানুষ তিনি নন । বিচক্ষণতার বিচারে তিনি আপোষহীন নেত্রী ,কারণ তার ধমনিতে বইছে আপোষহীন নেতা বঙ্গবন্ধুর রক্ত ।
গোলাম রব্বানী আপনার ও আপনাদের সমস্ত অপকর্মের তথ্য প্রমাণ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। ছাত্রলীগ আপার কতটা আবেগ আর ভালোবাসার জায়গা তা আমরা যারা ছাত্রলীগ করেছি ,আপার দুয়ারে যাদের একবারও যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তারা জানে ।
আপনি আরো ভালো ভাবেই জানেন যেহেতু আপনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে আপার সরাসরি স্নেহধন্য হওয়ার সৌভাগ্য আপনার হয়েছিল । সেই স্থান আপনি নিজেই হারিয়েছেন নিজের কর্ম দোষে । নিজেকে জাহির করার অন্যান্য কার্যক্রমের মতো আপনার অনুভূতি প্রতিক্রিয়া ছিল বলে মনে করছেন অনেকেই । আমিও তাদের মতামতের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি ।
নেতাদের নিয়ে আপনি বারবার নোংরা খেলায় মেতেছেন , প্রশ্ন তুলেছেন তাদের হাত ধরেই কিন্তু আপনার ছাত্রলীগ জীবনের পথচলা হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তাদের হাত ধরে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় পেয়েছিলাম সেসব সিনিয়রদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো । আপনি নিজে আপনার কর্মীদের কি শিক্ষা দিয়েছিলেন বলতে পারেন ?
২০১০ সালে ঢাকার বাইরে একেবারেই নতুন একটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে সেই প্রথম দিনের মিছিলে জয় বাংলা’ স্লোগানে গলা মিলিয়ে বড় ভাইদের সাথে বহুদিন মিছিল করেছি, একটা একটা করে সহযোদ্ধা তৈরি করেছি ,বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ছাত্রী হলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য হয়েছিলাম। গত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি কেন্ডীডেট হয়েছিলাম কারণ পরিশ্রম কারো চেয়ে কম করি নি বরঞ্চ নানা প্রতিকূলতায় আরো বেশি পরিশ্রম করতে হয় আমাদের। যারা রাজনীতি করেন তারা অন্তত বুঝতে পারবেন আমাদের পথ চলার সহজ ছিলনা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের পথ তৈরি করা ছিল না আমাদের পথ আমাদেরই তৈরি করতে হয়েছিল ।
আপনি নেতা হওয়ার পর আপনাকে আপনার মত করে প্রটোকল দেইনি বলে নিজের পরিশ্রম যোগ্যতা পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস গোয়েন্দা রিপোর্ট পিছিয়ে না থাকায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্থান পায়নি বরঞ্চ নিজের ফেসবুক থেকে আনফ্রেন্ড করে আপনার অনুসারীদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করিয়েছিলেন।
নিজে এমন কি মহান কাজ করেছেন যে কথায় কথায় আবার ছাত্রলীগ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করেন। আপনি কমিটি করার সময় কে কার লোক তার বিচার করে ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজেদের কর্মীদের নিয়ে কমিটি করেছিলেন।
আপনাকে আরও সংযত করুন। নিজেকে নিজে কি মনে করেন ? এত কিছু বোঝেন অথচ আপনি কি করছেন আপনাকে নিয়ে কি ভাবছে?
নতুন করে কিছু চাওয়ার নেই আসলে মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মহান আল্লাহতায়ালা যেন আর কোন ফেরিওয়ালা নিজের পকেট ভারী না করতে পারে এটাই শেষ চাওয়া থাকবে ।
