সোনারগাঁও প্রতিনিধি
মুক্তি যোদ্ধাদের কারনে দেশে বিভিন্ন গান রচিত হয়েছে। তাদের দেশ সন্মানের সাথে সন্মানী দিয়ে যাচ্ছেন। যে কোন সরকারের দপ্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য থাকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা।
সকলের কাছে মুক্তিযোদ্ধারা সন্মনের ও শ্রদ্ধেয়। মুক্তিযোদ্ধার কাছে ঘুষ চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশে বেধ আলোচিত ঘটনার জনক জেলা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মুক্তিযোদ্ধার কাছে (সহকারী কমিশনার ভূমি) এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষ চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই অফিসের সার্ভেয়ারের সহযোগীর ঘুষ চাওয়ার প্রতিবাদ করায় মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভূক্তভোগি ভাগলপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা জামাল মোল্লা জানান, সোনারগাঁও ভূমি অফিসে গেলে এসিল্যান্ড তাকে লাঞ্ছিত করে বের করে দেন। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এসিল্যান্ড একের পর এক সোনারগাঁয়ে জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযুদ্ধা ও সাধারণ জনগণকে লাঞ্ছিত করেই যাচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোববার ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লা মন্ত্রীপরিষদ সচিব ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার ভাগলপুরের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লা ‘এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে’ প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা অনুসারে চাষাবাদের জন্য তার জমির পাশে একটি অনাবাদি ও অকৃষি জমির বন্দোবস্ত চান। র্দীঘ ৬ মাসেরও অধিক সময় ধরে ওই আবদেনটি সোনারগাঁ ভূমি অফিসে পরে থাকে। সম্প্রতি এ বিষয়ে খোঁজ নিতে সোনারগাঁ এসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ারের সহযোগী হিসেবে কাজ করা উমেদার মো. সোহাগ কাজ করিয়ে দেয়ার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন৷
বৃহস্পতিবার সোনারগাঁ এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে এসিল্যান্ড আল মামুন তাকে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন বলে মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লা অভিযোগ করেন।
মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল মোল্লার অভিযোগ, সার্ভেয়ার বন্দোবস্ত চাওয়া জমি সরেজমিনে দুই বার পরিদর্শন করে পক্ষে মতামত দিলেও সোহাগ এবং এসিল্যান্ড আল মামুন উভয়ের যোগশাজসে ঘুষ নেয়ার জন্য হয়রানি করে আসছে। এসিল্যান্ড অফিসের নিয়োগ করা কোন কর্মচারী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে এভাবে ফাইল আটকে হয়রানির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ আদায় করে আসছে উমেদার সোহাগ। বছরের পর বছর ধরে এভাবে ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন দুর্নীতিবাজ এ কর্মচারী।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। বিষয়টি সার্ভেয়ার পর পর দুইবার পরিদর্শন করে নাল জমি হিসেবে রিপোর্ট দিলে আমি নাল জমি হিসেবে বন্দোবস্ত দেয়া যেতে পারে সুপারিশ করে ফাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। তিনি বলেন, আমার বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা। ওনার সঙ্গে অসাদআচরণ করা হয়নি। সম্মান দিয়েই ওনার সঙ্গে কথা বলেছি।
